হযরত শাহ্ সুলতান মাহমুদ বলখী মাহিসওয়ার (রহ.): হযরত শাহ্ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.) মধ্য এশিয়ার বল্লখ রাজ্যের সম্রাট ছিলেন তিনি ছিলেন বল্লখ রাজ্যের সম্রাট শাহ আলী আসগরের পুত্র, পিতার মৃত্যুর পর তাকেই সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করা হয় কিন্তু উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া রাজসিংহাসন ছেড়ে দামেস্কে এসে শেখ তৌফিকের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এবং তার মোর্শেদ শেখ তৌফিক এর নির্দেশে তাকে বাংলায় গিয়ে ইসলাম প্রচার করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মোতাবেক তিনি ১০৫৩ সালে দামেস্ক থেকে সমুদ্রপথে মাছের পিঠে আরোহন করে বাংলা অভিমুখে যাত্রা করেন এবং গঙ্গা নদীর মোহনায় অবস্থিত সন্দ্বীপে।
সেখান থেকে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামনগরে আসেন। সেখানে কালী উপাসক বলরাম স্থানটি শাসন করছিলেন। রাজা শাহ সুলতানকে ইসলাম প্রচারে বাধা দেন। ফলে দুপক্ষে যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে রাজা নিহত হন এবং তাঁর মন্ত্রী ইসলাম গ্রহণ করে প্রাণ বাঁচান।
অতঃপর শাহ সুলতান মহাস্থানের দিকে অগ্রসর হন। এবং মাছের পিঠে আরোহন করে তিনি মহাস্তানগড়ে (পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী) আসেন। এজন্য তাকে মাহী সওয়ারও বলা হয়। কথিত আছে হযরত মীর বোরহান নামক একজন মুসলমান এখানে বাস করতেন। পুত্র মানত করে গরু কোরবানী দেয়ার অপরাধে রাজা পরশুরাম তার বলির আদেশ দেন এবং তাকে সাহায্য করতেই মাহী সওয়ারেরর আগমন ঘটে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, মহাস্থান গড়ের প্রচীন নাম ছিল বরেন্দ্র বা পুন্ড্র নগর। এক কালে মৌর্য গুপ্ত পাল ও সেন রাজাগণের এই মহাস্থান গড় রাজধানী ছিল। তাঁরা এখান থেকে তাঁদের দেশ কে পরিচালনা করত। আর ওই পাল রাজাগণ এখানে রাজত্ব করে ৭৫০ থেকে ১১২৪ সাল পর্যন্ত। সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন যখন লক্ষাণ সেন এই গৌড়ে রাজত্ব করত। তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।১০৮২ থেকে ১১২৫ সালে মহাস্থানের রাজা ছিল নল যার বিরোধ লেগে থাকত তার ভাই নীল এর সাথে আর এই বিরোধের সময়ে ভারতের দাক্ষিণাত্যের শ্রীক্ষেত্র নামক স্থান থেকে এক অভিশপ্ত ব্রাহ্মণ এই মাহস্থান গড়ে আগমন করে। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা। কারণ সে পরশু বা কুঠার দ্বারা মাতৃ হত্যার দায়ে অভিশপ্ত ছিল।পরবর্তীতে সে ওই দুই ভাই নল এবং নীলের সাথে প্রতারণা করে রাজা নির্বাচিত হয়। এই ব্রাহ্মণের নাম ছিল রাম। ইতিহাসে সে পরশুরাম নামে পরিচিত।
হযরত শাহ্ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.) মহাস্থানগড় পৌছে তিনি ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন,প্রথমে রাজা পরশুরামের সেনাপ্রধান, মন্ত্রি এবং কিছু সাধারণ মানুষ ইসলামের বার্তা গ্রহণ করে মুসলিম হয়, এভাবে পুন্ড্রবর্ধনের মানুষ হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে থাকলে রাজা পরশুরামের সাথে শাহ সুলতানের বিরোধ বাধে এবং এক সময় যুদ্ধ শুরু হয়, এই যুদ্ধ ১২০৫থেকে ১২২০সাল র্দীঘ ১৫ বছর পর্যন্ত এই যুদ্ধ হয়।
সেই যুদ্ধে পরশুরাম পরাজিত ও নিহত হয় এবং পিতার মৃত্যুর খবর শুনে রাজার কন্যা রাজকুমারী শীলাদেবী করতোয়া নদীতে ডুবে আত্মহত্যা করেন । তার নিমজ্জিত স্থানের আশেপাশের এলাকা শিলা দেবীর ঘাট নামে পরিচিত।
এরপর থেকেই হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.) এই মহাস্থান গড়ের রাজত্ব করেন এবং ইসলামের দাওয়াতের প্রচার প্রসার করেতে থাকেন। বগুড়ার মহাস্থানগড় তাঁর রওজা শরীফ অবস্থিত।

0 Comments